নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফাঁসির রায় ও নানা ঝুঁকির বিষয়টি জানা সত্ত্বেও দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাপানের সংবাদমাধ্যম ‘কিয়োডো নিউজ’-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান।

সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বাংলাদেশে ফিরে আসব এবং আদালতে হাজির হব। তারা আমাকে কারাগারে পাঠাতে পারে, কিংবা ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টাও করতে পারে—আমি সব ধরনের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন।”

এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি উল্লেখ করেন, তার পাশাপাশি দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলেও, এ রায়কে তিনি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছেন। আন্দোলনের সময়ের সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দ্বারা তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব।”

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও পুনর্মিলন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের ক্ষত নিরাময় জরুরি হলেও পুনর্মিলনের অর্থ দায়মুক্তি নয়। অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে, যা ভারত সরকার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।